গুলশান মডেল হাই স্কুল এন্ড কলেজ

রোড # ৮৬, গুলশান- ২, ঢাকা - ১২১২

স্থাপিত- ১৯৭২ খ্রীঃ, EIIN- 108037

প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

 

        পরম করুনাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি, ঢাকা মহানগরীর অভিজাত এলাকা গুলশান-২ গোলচক্কর সংলগ্ন ১.৫০ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলশান মডেল হাই স্কুল এন্ড কলেজ। ১৯৭২ সালে এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়ার সুযোগ রয়েছে। মাধ্যমিক স্কুল হিসেবে ১৯৮২ সালে এবং উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ হিসেবে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্ত হয়।

প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলে আছে চমৎকার সাফল্য, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জিপিএ ৫ সহ পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় পাসের হার শতভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাসের হারও প্রায় শতভাগ। জন্মলগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা বর্তমানে দেশে-বিদেশ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মরত আছেন। পাঠদান প্রক্রিয়া আকর্ষণীয়, আনন্দদায়ক ও আধুনিকীকরণ করতে প্রতিষ্ঠানটির শ্রেণীকক্ষে রয়েছে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহারের সুবিধা। এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদের নিরলস পাঠদান করছেন। আধুনিক জ্ঞান বিকাশে তথা ছাত্র-ছাত্রীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও আধুনিক প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলার প্রয়াসে প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি সজ্জিত একটি বিজ্ঞানাগার, রয়েছে একটি সুসজ্জিত কম্পিউটার ল্যাব। ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য রয়েছে একটি বিস্তীর্ণ খেলার মাঠ ও মাঠের চারপাশে রয়েছে নানা প্রজাতির বনজ,ফলজ ও ঔষধি গাছ এবং একাডেমিক ভবনের সামনে  রয়েছে নয়নাভিরাম ফুলের বাগান, রয়েছে ল্যাব। ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপদ স্যানিটারি ল্যাট্রিন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে।ছাত্র-ছাত্রীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ মানুষ করে গড়ে তোলার জন্য রয়েছে সহশিক্ষা কার্যক্রম বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম, সায়েন্স ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, কালচারাল ক্লাব ইত্যাদি । তাছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক বিকাশের স্বার্থে প্রতিবছর শিক্ষা সফর, বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির চারটি ভবনে মোট ৪০ টি শ্রেণি কক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করা হয়। স্কুল শাখার ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা প্রায় এক হাজার(১০০০)জন, কলেজ শাখায় শিক্ষার্থী আছে প্রায় ৫০০ জন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক মিলিয়ে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৭৫ জন ও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর সংখ্যা ১৫ জন। ল্যাব। ছাত্র-ছাত্রীদের যাবতীয় বেতন ও পরীক্ষা ফি আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সফটওয়্যার রয়েছে যেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা সহজেই তাদের বেতন ও পরীক্ষা ফি প্রদান করতে পারে এবং শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের বেতন উত্তোলন করতে পারেন।

প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন সাবেক মহামান্য রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। তাঁর সহযোগিতায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আর্থিক অনুদানে অত্র প্রতিষ্ঠানে নির্মাণাধীন রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত আটতলা বিশিষ্ট একটি নির্মানাধীন ভবন ও তিনতলা বিশিষ্ট একটি একাডেমিক ভবন।এছাড়াও তিনতলা বিশিষ্ট দুইটি কলেজ ভবন রয়েছে। এরই মধ্যে মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার ও পূর্ব দিকে নির্মিত হয়েছে একটি নয়নাভিরাম প্রধান ফটক। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এম. মুস্তাফা জামান মিয়া জানান, ছাত্র-ছাত্রীরা ও অভিভাবক মহল আরও বেশি দায়িত্ববান ও আন্তরিক সচেতন হলে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা মহানগরীর গুলশান তথা বাংলাদেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান অর্জন করবে।